fbpx

Basics

PLC

VFD

Stepper Motor

HMI

One-line Diagram

ডে -৯: DOL Starter সার্কিট কানেকশন।

ডে -৯: DOL Starter সার্কিট কানেকশন

উদ্দেশ্য 

এ প্রজেক্ট এর মাধ্যমে আমরা দেখব যে, কিভাবে একটি DOL starter সার্কিট ব্যবহার করে একটি মোটরকে চালু বা বন্ধ করতে হয়। 

প্রয়োজনীয় কম্পনেন্ট সমূহঃ

  1. ম্যাগনেটিক কন্টাক্টর
  2. পুশ সুইচ
  3. সিঙ্গেল ফেজ এসি মটর

সার্কিট ডায়াগ্রাম

কার্যপ্রণালী

চিত্রে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে একটি ম্যাগনেটিক কন্টাক্টর এবং দুইটি পুশ বাটন দিয়ে একটি সিঙ্গেল ফেজ এসি মোটর কন্ট্রোল সার্কিট ডায়াগ্রাম দেখানো হয়েছে।

এই সার্কিটটি মূলত ডল স্টাটার (DOL Starter) নামে বহুল প্রচলিত। একটি এসি মোটর কে কন্ট্রোল করার পদ্ধতি হচ্ছে ডল স্টাটার সার্কিট। এই সার্কিটের মাধ্যমে আমরা খুব সহজেই একটি এসি মোটর কে কন্ট্রোল করতে পারব।

চিত্রে লাল এবং সবুজ কালারের দুইটি পুশ বাটন দেখানো হয়েছে। লাল টি হল এন সি(NC) এবং সবুজ টি হল এন ও(NO)। 

চিত্রে লক্ষ্য করলে দেখতে পাবো 220 ভোল্ট এসি পাওয়ার সোর্সের লাইন টার্মিনাল টি এন সি(NC) এবং এন ও(NO)পুশ  বাটন এর মধ্য দিয়ে ম্যাগনেটিককন্টাক্টরের  ইনপুট টার্মিনাল L1 এবং ম্যাগনেটিক কন্টাক্টরের কয়েল A1 টার্মিনালে কানেকশন দেওয়া হয়েছে এবং নিউট্রাল টার্মিনাল টি সরাসরি ম্যাগনেটিক কন্টাক্টর এর কয়েল A2 এবং ইনপুট L2 টার্মিনালে কানেকশন দেওয়া হয়েছে।

আবার দুইটি পুশ বাটন এর মধ্যে থেকে  ম্যাগনেটিক কন্টাক্টরের এক পাশের এন সি(NC) টার্মিনালে কানেকশন দেওয়া হয়েছে এবং অপর পাশের এন ও(NO) টার্মিনালটি ম্যাগনেটিক কন্টাক্টরের কয়েল A1 টার্মিনালের সাথে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এবং আউটপুট টার্মিনাল যথাক্রমে T1 এবং T2 এর সাথে মোটরের কানেকশন দেওয়া হয়েছে। তাহলে সাধারণ অবস্থায় আমার এনসি (NC) পুশ বাটনের মধ্য দিয়ে এন ও (NO) পুশ বাটনের এক প্রান্তে পাওয়ার এসে থাকবে।

যখন  এন ও (NO)  পুশ বাটন টি প্রেস করা হবে তখন ম্যাগনেটিক কন্টাক্টর পাওয়ার পাবে এবং মোটর কে অন(ON) করে দিবে। আবার যখন এনসি (NC) পুশ বাটন টি প্রেস করা হবে তখন ম্যাগনেটিক কন্টাক্টরে কোন পাওয়ার যাবেনা।  ম্যাগনেটিক কন্টাক্টর কোন পাওয়ার না পেলে মোটর কে অফ করে দিবে।

আমরা সবাই জানি যে পুশ বাটন প্রেস করে ধরে রাখলে তার ভিতর দিয়ে পাওয়ার প্রবাহিত হয় এবং  প্রেস করে ছেড়ে দিলে তার মধ্য দিয়ে পাওয়ার প্রবাহিত হতে পারে না।

এখন প্রশ্ন হতে পারে যে তাহলে আমাদের এই সার্কিটে পুশ বাটন গুলো কিভাবে কাজ করছে। চিত্রে লক্ষ্য করলে দেখতে পাবো দুইটি পুশ বাটন এর মধ্য থেকে একটি কানেকশন ম্যাগনেটিক কন্টাক্টরের এন ও (NO) টার্মিনালের সাথে দেওয়া হয়েছে এই কানেকশনকে ল্যাচিং বলা হয়।

সেজন্য যখন পুশ বাটনটি প্রেস করে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে তখনো আউটপুট লোড অন অবস্থায় থাকছে কারন এই কানেকশনের মাধ্যমে ম্যাগনেটিক কন্টাক্টরে পাওয়ার সরবরাহ হচ্ছে। ডল স্টাটার (DOL Starter)সার্কিট মূলত এভাবেই কাজ করে। 

  

কম্পনেন্ট সম্পর্কে ধারণাঃ

ম্যাগনেটিক কন্টাক্টরঃ

ম্যাগনেটিক কন্টাক্টর মূলত একটি ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক সুইচিং ডিভাইস। যা রিলের মত কাজ করে। রিলে মূলত লো ভোল্টেজ এবং লো কারেন্ট পরিবহনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। 

অন্য দিকে ম্যাগনেটিক কন্টাক্টর হাই ভোল্টেজ এবং হাই কারেন্ট পরিবহনের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে সিঙ্গেল ফেজ এবং থ্রি ফেজ উভয়ই লোড কে কন্ট্রোল করা যায়। 

ম্যাগনেটিক কন্টাক্টর এর কার্যপ্রণালীঃ

সাধারণত যখন ম্যাগনেটিক কন্টাক্টরে কারেন্ট সরবরাহ দেয়া হয় তখন এটার ভেতরে ম্যাগনেটিক ফিল্ড তৈরি হয়,এই ম্যাগনেটিক ফিল্ড মুভিং কোর আর ফিক্সড কোরের মাঝে মুভিং কোরকে আকর্ষণ করা শুরু করে দেয়

ম্যাগনেটিক ফিল্ডের এই আকর্ষণ মুভিং কোরকে এনারজাইসড করতে থাকে, একটা সময় মুভিং কোর আর ফিক্সড কোরের মাঝে শর্ট সার্কিট হয়ে যায় এবং কারেন্ট তারপরের স্টেপে চলে যায়।

সাপ্লাই এর সুরুতে আর্মেচার কয়েলের ভিতর দিয়ে বেশি কারেন্ট প্রবাহিত হলেও একটু পরেই কারেন্ট এর প্রবাহের মাত্রা কমে যায়। একটা পর্যায়ে গিয়ে যখন কারেন্ট প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় তখন কয়েল ডিএনারজাইসড পরিনত হয় এবং কন্টাক্ট ওপেন হয়ে যায়। এভাবে সরবরাহের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যেতে ম্যাগনেটিক কন্টাক্টরের সময় প্রয়োজন হয়, মেক্সিমাম দুই থেকে তিন সেকেন্ড

ম্যাগনেটিক কন্টাক্টর গঠনপ্রণালীঃ

ম্যাগনেটিক কন্টাক্টরের গঠনপ্রণালী অন্যান্য ইলেক্ট্রিক্যাল ডিভাইসের তুলনায় বেশ সহজ, এগুলোর বিস্তারিত নিচে দেয়া হলো

কন্টাক্টর কয়েল:

ইনপুটের তিনটা টার্মিনালের মাঝে একটা টার্মিনাল হচ্ছে কন্টাক্ট কয়েল, কন্টাক্টর কয়েলের দুইটা প্রান্ত থাকে যেখানে ইলেক্ট্রম্যাগনেটিক ফিল্ড সৃষ্টি হয় পাওয়ার সাপ্লাই দেয়ার পরে। A1 এবং A2 দিয়ে এই দুইটা প্রান্ত বোঝানো হয়।

মেইন টার্মিনাল : সাধারনত ম্যাগনেটিক কন্টাক্টরের দুই পাশে মেইন টার্মিনাল থাকে। একপাশে ইনপুট টার্মিনাল আর আরেক পাশে অউটপুট টার্মিনাল থাকে।

এটার তিনটা ইনপুট টার্মিনাল আর তিনটা অউটপুট টার্মিনাল থাকে।ইনপুট টার্মিনাল তিনটাকে L1,L2,L3 দ্বারা বোঝানো হয় আর অউটপুট টার্মিনাল তিনটাকে T1,T2,T3 দ্বারা বোঝানো হয়

অক্সিলারি টার্মিনালঃ  অক্সিলারি টার্মিনালে দুই ধরনের কন্টাক্ট থাকে, সেগুলা হল নরমালি ওপেন (NO) এবং নরমালি ক্লোজ (NC)

যে অবস্থায় ম্যাগনেটিক কন্টাক্টরের মাঝে পাওয়ার প্রবাহ বন্ধ থাকে, মানে কোন সাপ্লাই দেয়া থাকেনা তখন ম্যাগনেটিক কন্টাক্টরের অক্সিলারি কন্টাক্ট বন্ধ থাকে, এই অবস্থাকেই নরমালি ক্লোজ বলা হয়।এটা সাধারণত (NC) দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

যে অবস্থায় ম্যাগনেটিক কন্টাক্টরের মাঝে পাওয়ার প্রবাহ দেয়া হয়ে থাকে তখন ম্যাগনেটিক কন্টাক্টরের এর অক্সিলারি কন্টাক্ট খোলা অবস্থায় থাকে, এই অবস্থাকেই নরমালি ওপেন বলা হয়। এটা সাধারণত (NO) দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

একটি ম্যাগনেটিক কন্ডাক্টর সাধারণত contact spring, moving contact, moving magnet, fixed contact, return spring, magnet এবং coil  ইত্যাদি সহ বেশ কিছু অংশের সমন্বয়ে গঠিত।

চিত্রে দেখানো, A1 এবং A2 টার্মিনালে পাওয়ার সরবরাহ করা হয়, তখন কয়েলের চারপাশে ইলেক্ট্রো-ম্যাগনেটিক ফিল্ড তৈরি হয়।

ফলে, moving contact অংশ Fixed contact অংশের সাথে মিলে যায় এবং পাওয়ার প্রবাহের পথ সম্পন্ন করে। কয়েল টার্মিনালে পাওয়ায় সরবরাহ বন্ধ করলে, স্প্রিং এর সাহায্যে moving  contact অংশ তার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যায়৷ ফলে, মেইন টার্মিনালের মাধ্যমে পাওয়ার প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। 

error: Alert: Content is protected !!