fbpx

Basics

PLC

VFD

Stepper Motor

HMI

One-line Diagram

ডে-১ঃ AC – DC পাওয়ার সাপ্লাই তৈরি করণ।

ডে-১ঃAC – DC পাওয়ার সাপ্লাই তৈরি করণ

উদ্দেশ্য:

এ প্রজেক্ট এর মাধ্যমে আমরা জানব, কিভাবে AC – DC পাওয়ার সাপ্লাই তৈরি করতে হয়। 

প্রয়োজনীয় কম্পোনেন্ট সমূহ:

  1. ডায়োড 
  2. ট্রান্সফর্মার 
  3. রেজিস্টর 
  4. ক্যাপাসিটর 
  5. ভোল্টেজ রেগুলেটর 

সার্কিট ডায়াগ্রাম

কার্যপ্রণালী

চিত্রে একটি  AC 220V থেকে DC 5V পাওয়ার সাপ্লাই এর সার্কিট ডায়াগ্রাম দেখানো হয়েছে। এখানে ট্রান্সফরমার (AC 220V – 0V – 12V, 1 Amp) কে স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। ট্রান্সফরমারটি মূলত AC 220V থেকে AC 12V তে কমানোর কাজ করে। প্রাপ্ত AC 12V কে DC তে রূপান্তর করার জন্য IN4007 মডেলের দুটি ডায়োড  (রেকটিফায়ার) ব্যবহার হয়েছে। ডায়োড (রেকটিফায়ার) দ্বারা AC কে ভেজালযুক্ত  DC তে রূপান্তর করা যায়। 

ডায়োডের এনোড টার্মিনালগুলো কে AC 12V এর সাথে এবং ক্যাথোড টার্মিনালগুলোকে  polarized capacitor (1000uF, 36-50V) এর পজিটিভ টার্মিনালের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে। ক্যাপাসিটরের নেগেটিভ টার্মিনালকে ট্রান্সফরমারের 0V  প্রান্তের সাথে সংযোগ করা হয়েছে। এখানে ক্যাপাসিটরটি, প্রাপ্ত ভেজালযুক্ত ডিসি কে পিউর ডিসি তে পরিণত করার জন্য ফিল্টারিং এর কাজ করে থাকে।

এখন, ফিল্টারিং করা ভোল্টেজ পরিমাপ করলে দেখা যাবে যে, এখানে আমাদের প্রয়োজনীয় ভোল্টেজের চেয়ে অনেক বেশি। তাই, প্রয়োজনীয় ভোল্টেজ আউটপুটের জন্য মডেলের একটি ভোল্টেজ রেগুলেটর আইসি লাগানো হয়েছে। যার আউটপুট ভোল্টেজ ৫ ভোল্ট পাওয়া যাবে। এখানে, ভোল্টেজ রেগুলেটর আইসি প্রথম টার্মিনাল হচ্ছে, ইনপুট, দ্বিতীয় টার্মিনাল হচ্ছে, গ্রাউন্ড  এবং তৃতীয় টার্মিনাল হচ্ছে, আউটপুট। 

ভোল্টেজ রেগুলেটর আইসির আউটপুট টার্মিনালের সাথে একটি ১ কিলোওহম মানের রেজিস্টরের সাথে এলইডি ব্যবহার করে আউটপুট নেয়া হয়েছে। ভোল্টেজ রেগুলেটর আইসির আউটপুট টার্মিনাল এবং গ্রাউন্ডের সাথে মিটার কানেকশন করলে আমরা কাঙ্ক্ষিত আউটপুট ভোল্টেজ পাব। 

কম্পোনেন্ট সুমহ সম্পর্কে ধারণা 

ডায়োড: 

একটি ডায়োড একটি দ্বি-টার্মিনাল ইলেকট্রনিক্স কম্পোনেন্ট।  যা দ্বিমুখী কারেন্ট বা AC কে একমুখী বা DC করে। এটির এক প্রান্তে উচ্চ রেজিস্ট্যান্স এবং অন্য প্রান্তে কম রেজিস্ট্যান্স রয়েছে। 

diode
চিত্রঃ ডায়োড এর প্রতীক

ডায়োডের গঠন এবং কার্যপ্রণালী:

ডায়োড দুটি অর্ধপরিবাহী পদার্থ (যেমনঃ সিলিকন এবং জার্মেনিয়াম ইত্যাদি) দ্বারা তৈরি করা হয়। যখন অ্যানোড ভোল্টেজ ক্যাথোড ভোল্টেজের চেয়ে বেশি  হয়, তখন ডায়োডকে বলা হয় ফরওয়ার্ড বায়াস এবং এটি অপেক্ষাকৃত কম ভোল্টেজের ড্রপ দিয়ে সহজেই সঞ্চালিত হয়।

অনুরূপভাবে, যখন ক্যাথোড ভোল্টেজ অ্যানোডের চেয়ে বেশি  হয়, তখন ডায়োডকে রিভার্স বায়াস বলা হয়। ডায়োড প্রতীকের তীরটি ডায়োড সঞ্চালনের সময় প্রচলিত বর্তমান প্রবাহের দিক নির্দেশ করে।

ডায়োড মুলত গঠন, কাজ এবং বাবহারের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। নিম্নে কয়েক ধরনের ডায়োডের নাম উল্লেখ করা হলো। যথাঃ

  1. Light Emitting Diode
  2. Laser diode
  3. Avalanche diode
  4. Zener diode
  5. Schottky diode
  6. Photodiode
  7. PN junction diode

ট্রান্সফর্মার: 

ট্রান্সফরমার হচ্ছে, একটি Passive electric device। যা সাধারণত একটি ইলেক্ট্রিক সার্কিট হতে অপর একটি ইলেক্ট্রিক সার্কিটে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ইন্ডাকশন উপায়ে ইলেক্ট্রিক এনার্জি স্থানান্তর করে৷ 

ট্রান্সফরমারের সংজ্ঞা এভাবে বলা যায় যে, Transformer একটি ডিভাইস বা যন্ত্র যার মধ্যে electric power ও frequency এর পরিবর্তন না করে এবং কোন ধরনের বৈদ্যুতিক সংযোগ ছাড়া ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক উপায়ে ভোল্টেজ কম বা বেশি (ভোল্টেজ স্টেপ আপ/ স্টেপ ডাউন) করে এক সার্কিট হতে অপর সার্কিটে স্থানান্তর করা যায়। 

ট্রান্সফরমার এর গঠন প্রণালীঃ

ট্রান্সফরমারের গঠন সিম্পল। একটি ট্রান্সফরমার  তিনটি প্রধান অংশের সমন্বয়ে গঠিত হয়। যথা-

  1. প্রাইমারি কয়েল (Primary Winding of Transformer)
  2. ম্যাগনেটিক কোর (Magnetic Core of Transformer)
  3. সেকেন্ডারি কয়েল (Secondary Winding of Transformer)

নিম্নে চিত্রের মাধ্যমে ট্রান্সফরমারের বিভিন্ন অংশ দেখানো হলো।

transformer

প্রাইমারি কয়েল (Primary Winding):

প্রাইমারি কয়েলকে ইনপুট কয়েল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অর্থাৎ এ কয়েলে পাওয়ার সাপ্লাই দেওয়া হয়। প্রাইমারি কয়েলে ভোল্টেজ প্রদান করে ম্যাগনেটিক ফ্লাক্স তৈরি হয়।

ম্যাগনেটিক কোর (Magnetic Core):

ইস্পাতের তৈরি যে ফ্রেমে winding মোড়ানো থাকে সেই ফ্রেমই হলো কোর। ইস্পাতের তৈরি কোর ব্যবহারের ফলে প্রাইমারি কয়েলে উৎপন্ন ম্যাগনেটিক ফ্লাক্স খুব সহজে সেকেন্ডারির সাথে ট্রান্সফার হতে পারে।

সেকেন্ডারি কয়েল (Secondary Winding):

সেকেন্ডারি কয়েল হচ্ছে আউটপুট অংশ। অর্থাৎ এ কয়েল হতে তারের মাধ্যমে আউটপুট নেওয়া হয়। প্রাইমারি কয়েলে উৎপন্ন ম্যাগনেটিক ফ্লাক্স ম্যাগনেটিক কোরের মাধ্যমে সেকেন্ডারি কয়েলে ট্রান্সফার হয়ে আউটপুট প্রদান করে৷ 

ট্রান্সফরমারের অন্যান্য অংশ সমূহ:

একটি ট্রান্সফরমার কার্যোপযোগী হওয়ার জন্য উপরের তিনটি প্রধান অংশ ছাড়াও অন্যান্য অংশগুলো বেশ প্রয়োজনীয়। তবে, ট্রান্সফরমারের ধরনভেদে এ অংশগুলো ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে৷  নিম্নে কয়েকটি অংশের বর্ণনা দেওয়া হলো।  

চিত্রঃ ট্রান্সফরমারের বিভিন্ন অংশ।

কয়েল:

একটি ট্রান্সফরমারের কয়েলের ব্যবহৃত তার  সাধারণত সুপার এনামেল তামার তার দিয়ে কয়েল তৈরি করা হয় । যা শক্ত অবকাঠামো সম্পন্ন ও দৃঢ় ক্ষমতা সম্পন্ন হয়।

ইন্সুলেশন:

নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোরকে কয়েল হতে আলাদা করার জন্য কোরের উপর অপরিবাহী পদার্থ (ইন্সুলেটিং পেপার – কাগজ, রাবার প্যাড) ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

আর্থ পয়েন্ট:

ট্রান্সফরমারকে  দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য এর মূল বডির সাথে দুটি আর্থ পয়েন্ট থাকে। যা সরাসরি মাটির সাথে সংযুক্ত থাকে এবং অতিরিক্ত বিদুৎ মাটিতে স্থানান্তরিত হয়। 

ট্যাঙ্ক:

ট্যাঙ্ক হলো কয়েল ও কোরের উপরের অংশ। সাধারণত ট্যাঙ্কের তলার সাথে কোর আবদ্ধ থাকে।ট্যাঙ্কের উপর কভার লাগানো থাকে, যা আদ্রতা ও ও জলীয়বাষ্প রোধ করে।

ট্রান্সফরমার ওয়েল:

ট্যাঙ্কে ব্যবহৃত তেল কে ট্রান্সফরমার তেল(Transformer oil) বলা হয়। এটি সাধারণত ইন্সুলেশনের জন্য এবং winding কে ঠাণ্ডা করতে ব্যবহার করা হয়। 

বুশিং:

ট্রান্সফরমারে বুশিং এর মাধ্যমে কয়েলের প্রান্তগুলো ট্যাঙ্কের বাইরে আনা হয়। বুশিং এর মাধ্যমে প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি কয়েল গুলো যথাক্রমে সাপ্লাই ও লোডে সংযুক্ত করা হয়।

ট্রান্সফরমার এর কার্যপ্রণালী:

একটি সাধারণ ট্রান্সফরমার মূলত মিউচুয়াল ইন্ডাকশন নীতির উপর ভিত্তি করে কাজ করে।

মিউচুয়াল ইন্ডাকশন হচ্ছে,  যখন একটি সার্কিটে অপর একটি সার্কিটের মধ্যে কারেন্ট পরিবর্তনের ফলে Electromotive Force উৎপন্ন হয় এবং সার্কিট দুটি Magnetic ভাবে সংযুক্ত হয়, তখন এই প্রক্রিয়াটিকে মিউচুয়াল ইন্ডাকশন বলা হয়। 

ট্রান্সফরমারে যখন প্রাইমারি কয়েলে পাওয়ার সরবরাহ(ভোল্টেজ) করা হয়৷ তখন ম্যাগনেটিক ফিল্ড (চৌম্বক ক্ষেত্র)  তৈরি হয় এবং ম্যাগনেটিক ফ্লাক্স কোরের মধ্য দিয়ে সেকেন্ডারি কয়েলের দিকে প্রবাহিত হয়। ফলে সেকেন্ডারি কয়েলে ভোল্টেজ পাওয়া যায়।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে কি পরিমান পাওয়ার সরবরাহ করে কি পরিমাণ ফলাফল পাওয়া যায়?

মনে রাখতে হবে যে,  প্রাইমারি কয়েলের তুলনায় সেকেন্ডারি কয়েলে কি পরিমান বিদ্যুৎ প্রবাহ হবে তা প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচ সংখ্যার উপর নির্ভর করে। একে ট্রান্সফরমার রেশিও বলে। 

ট্রান্সফরমার রেশিও এর সমীকরণ:

নিম্নে কয়েলের প্যাঁচ সংখ্যার ভিত্তিতে ট্রান্সফরমার রেশিও এর সমীকরণ দেখানো হলো।

Transformer of ratio, TR = Np/Ns

এখানে, 

TR  = ট্রান্সফরমার রেশিও

Np = প্রাথমিক কয়েলের প্যাঁচ সংখ্যা

Ns = সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচ সংখ্যা

ট্রান্সফরমার রেশিও ভোল্টেজ প্রবাহের ভিত্তিতেও বের করা যায়। 

অর্থাৎ, Voltage of transformer of ratio, TVR = Vp/Vs

এখানে, 

TVR = ট্রান্সফরমার রেশিও

Vp = প্রাথমিক কয়েলে সরবরাহকৃত ভোল্টেজ

Vs = সেকেন্ডারি কয়েলে সরবরাহকৃত ভোল্টেজ

রেজিস্টর : 

ইলেকট্রনিক্স সার্কিটে যে ধরণের পার্টস সব থেকে বেশি ব্যবহৃত হয় তার মধ্যে একটি হলো রেজিস্টর। রেজিস্টর সম্পর্কে জানার পূর্বে রেজিস্ট্যান্স কি, তা জানা প্রয়োজন।

রেজিস্ট্যান্স কি?

ইলেকট্রনিক্স সার্কিটে রেজিস্টর এর বাধা সৃষ্টি করার প্রক্রিয়াকে রেজিস্ট্যান্স বলা হয়। ওহমের সূত্র অনুযায়ী আমরা জানি,  V=IR 

R=V/I 

এখানে,

V = Volt

I = Current

R = Resistance

অতএব, ওহমের সূত্র অনুযায়ী রেজিস্ট্যান্স এর সংজ্ঞা হচ্ছে- ভোল্টেজ ও কারেন্টের অনুপাতকে রেজিস্ট্যান্স বলে। অর্থাৎ পরিবাহীর যে বৈশিষ্ট্যের কারণে বিদ্যুৎ প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয় উক্ত বৈশিষ্ট্য কে রেজিস্ট্যান্স বলে।

রেজিস্ট্যান্স এর একক :

ওহমের সূত্র অনুযায়ী, V=IR

R=V/I (V=Volt, A=Ampere)

তাহলে, রেজিস্ট্যান্স এর একক Volt / Ampere, একে ওহম (Ω) বলে। রেজিস্টরের মানের এক (Ω) ওহম।

রেজিস্টর:

Resistor একটি ইংরেজি শব্দ। যার বাংলা অর্থ হচ্ছে রোধক বা বাধা প্রদানকারী। ইলেকট্রনিক্স সার্কিটের প্রতিটা ডিভাইসে কারেন্ট প্রবাহের সঠিক ব্যালেন্স রেখে, তার মান অনুযায়ী সার্কিটে ভোল্টেজ প্রবাহে বাধা প্রদান করাই হলো রেজিস্টরের কাজ। তাহলে এক কথায় বলা যায় যে, ইলেকট্রনিক্স সার্কিটে যে কম্পোনেন্ট (যে উপাদান/যন্ত্রটি) কারেন্ট প্রবাহকে বাধা দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হয় তাকে রেজিস্টর বা রোধক বলে।

বর্তমানে বেশির ভাগ ইলেকট্রনিক্স সার্কিটে বিভিন্ন ধরনের রেজিস্টর দেখা যায়, যেগুলো  কার্বনের তৈরি হয়ে থাকে। এগুলো দেখতে অনেকটা ছোট বলে এর গায়ে কিছু লিখে মান প্রকাশ করা সম্ভব হয় না। তাই রেজিস্টর এর মান বিভিন্ন কালার কোড দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

রেজিস্টরের কালার কোড:

রেজিস্টর চেনার, মান নির্ণয়ের উপায় গুলোর মধ্যে সব থেকে সহজ উপায় হলো রেজিস্টরের কালার কোড দেখে রেজিস্টর চেনা। ইলেকট্রনিক্স সার্কিটে বেশির ভাগ রেজিস্টর কালার কোড ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যার মাধ্যমে খুব সহজে রেজিস্টর চেনা যায়। নিন্মে কালার কোডের লিস্ট দেওয়া হলো।

রেজিস্টার এর কাজ:

রেজিস্টর এর কাজ হলো, একটি বিদ্যুৎ প্রবাহিত শক্তিকে বাধা প্রদান করা। অর্থাৎ ইলেকট্রনিক্স সার্কিটে কারেন্ট প্রবাহে বাধা প্রধান করা বা ভোল্টেজ ড্রপ ঘটানোই রেজিস্টরের প্রধান কাজ।

এককথায় ‍বিদ্যুৎতের গতি রোধ করাই রেজিস্টিরের কাজ। রেজিস্টর এর একক হলো ওহম। ধরা যাক, একটা সার্কিটে এলইডি লাইট আছে, যার ভোল্টেজ ১.৫ থেকে ৩ ভোল্ট। কোন কারণে যদি সার্কিটের সোর্স ভোল্টেজ ৩ ভোল্টের বেশি সাপ্লাই হয়ে যায়, তখন এলইডি টি নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর এই বেশি সাপ্লাইয়ের অতিরিক্ত কারেন্টকে বাধা প্রদান করাই রেজিস্টরের কাজ।

রেজিস্টরের প্রকারভেদ:

রেজিস্টর প্রধানত দুই প্রকার। যথা-

  1. ফিক্সড বা কনস্ট্যান্ট রেজিস্টর।
  2. ভেরিয়েবল বা পরিবর্তনশীল রেজিস্টর।

ফিক্সড বা কনস্ট্যান্ট রেজিস্টর:

যে রেজিস্টরের মান অপরীবর্তনীয় তাকে ফিক্সড বা কনস্ট্যান্ট রেজিস্টর বলে। মোটকথা যে রেজিস্টরের মান তৈরির সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয় এবং যার মান পরিবর্তন করা সম্ভব নয় তাকে ফিক্সড বা অপরিবর্তনশীল রেজিস্টরের বলা হয়ে থাকে। ইলেকট্রনিক্স সার্কিটে যে রেজিস্টার এর মান পরির্বতন করা যায় না তাকে একই রেট রেজিস্টর বলে। যেমন- ক্যাপসুল কালারকোড রেজিস্টার যত ওহমসের জন্য তৈরী করা হয়, ঠিক তেমন আউটপুটের জন্য ব্যবহার করা হয়।

ফিক্সড রেজিস্টর আবার কয়েক ধরনের হয়। যথা-

  1. কার্বন কম্পোজিট রেজিস্টর।
  2. থিক এবং ফিল্ম রেজিস্টর।
  3. কার্বন পাইল রেজিস্টর।
  4. প্রিন্টেড কার্বন রেজিস্টর।
  5. কার্বন ফিল্ম রেজিস্টর।
  6. মেটাল ফিল্ড রেজিস্টর।
  7. ওয়্যার উন্ড রেজিস্টর।
  8. মেটাল অক্সাইড ফিল্ড।
  9. ফয়েল কোটেড রেজিস্টর।

ভেরিয়েবল বা মান-পরিবর্তনশীল রেজিস্টর:

যে রেজিস্টরের মান পরিবর্তনশীল অর্থাৎ ইচ্ছামত পরিবর্তন করা যায়,  তাকে ভেরিয়েবল রেজিস্টর বলা হয়। মোটকথা, যে রেজিস্টর সার্কিটে লাগানোর পরে রেজিস্টরের মান রেগুলেটেড করে পরিবর্তন করা যায় তাকে ভেরিয়েবল বা পরিবর্তনশীল রেজিস্টর বলে। আবার যে রেজিস্টরের মান প্রয়োজন অনুসারে কমানো-বাড়ানো সম্ভব তাকে ভেরিয়েবল রেজিস্টর বা পরিবর্তনশীল রেজিস্টরও বলে।

ভেরিয়েবল রেজিস্টর বা পরিবর্তনশীল রেজিস্টর কয়েক ধরনের হয়। যথা-

  1. এডজাস্টেবল ভেরিয়েবল রেজিস্টর।
  2. পটেনশিওমিটার ভেরিয়েবল রেজিস্টর।
  3. রেজিস্ট্যান্স ভেরিয়েবল ডিকেড বক্স।

এছাড়াও কিছু বিশেষ ধরনের রেজিস্টর রয়েছে। যেমন: এলডিআর। লাইট ডিপেনডেন্ড রেজিস্টর কে সংক্ষেপে এলডিআর (LDR) বলা হয়। এটি একটি বিশেষ ধরনের রেজিস্টর। যে রেজিস্টর আলোর উপর নির্ভর করে কাজ করে তাকে লাইট ডিপেনডেন্ড রেজিস্টর বা এল.ডি.আর বলে। এই ধরনের রেজিস্টরের উপর আলো পড়লে কাজ করে অন্ধ কারে এর মান 0 হয়ে থাকে। এটাও সাধারণ রেজিস্টরের মত কাজ করে, তবে এর প্রভাব আলোর উপর নির্ভর করে হয়ে থাকে।

ইলেক্ট্রনিক্স সার্কিটে রেজিস্টরের সংযোগ করার উপায়:

ইলেকট্রনিক্স সার্কিটে রেজিস্টর দুই ভাবে সংযোগ করা হয়। যথা- ১. সিরিজ এবং ২. প্যারালাল। 

সিরিজ সংযোগ:

সিরিজ শব্দের বাংলা অর্থ হলো ধারাবাহিক ভাবে সংযোগ করা। এই ক্ষেত্রে একাধিক রেজিস্টর একটার সাথে আরেকটার পা জোড় দিয়ে করা হয়ে থাকে। সিরিজ ভাবে সংযোগ করলে রেজিস্টরের বাধার মান কমতে থাকে। ফলে কারেন্ট প্রবাহের গতি বাড়তে থাকে। যেমন- যদি ২২ ওহম এর দুইটি রেজিস্টর সিরিজ ভাবে সংযোগ করা হয়, তাহলে তা ১১ ওহম রেজিস্টর হয়ে যাবে।

প্যারালাল সংযোগ:

প্যারালাল সংযোগ হলো দুই বা ততোধিক রেজিস্টর এক সাথে করে পা গুলো একটা রেজিস্টর হিসাবে ব্যবহার করাকে কে বোঝায়। প্যারালাল ভাবে সংযোগ করে রেজিস্টরের বাধার মান বাড়তে হয়ে থাকে। যেমন- যদি ২২ ওহম এর দুইটা রেজিস্টর প্যারালাল ভাবে সংযোগ করা হয়। তাহলে, তা ৪৪ ওহম রেজিস্টর হয়ে যাবে।

ক্যাপাসিটর :

দুইটি সুপরিবাহী পদার্থের অর্থাৎ Conductor-এর মাঝে যদি কোন অন্তরক অর্থাৎ ইনসুলেটর দিয়ে একটি কে অপর থেকে যখন আলাদা করে রাখা হয়, তখন তাকে ধারক বা ক্যাপাসিটর বলা হয়।

ইনসুলেটরটিকে বলা হয় ডাই ইলেকট্রিক। মোটকথা, যে ডিভাইসের মাধ্যমে কারেন্ট ফিল্টার করে সার্কিটের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ভোল্টেজ প্রবাহ করা হয়ে থাকে, তাকে ক্যাপাসিটর বলে। 

ক্যাপাসিটরের একক হলো ফ্যারাড, সংক্ষেপে F বা f । ফ্যারাড অনেক বড় হওয়ার কারনে একে প্রয়োজন মতো মাইক্রোফ্যারাড (µF), পিকো-ফ্যারাড (PF) এবং ন্যানো ফ্যারাড (nF) দ্বারা প্রকাশ করা হয়ে থাকে।

ক্যাপাসিট্যান্স (Capacitance): 

ইলেকট্রনিক্স সার্কিটে ক্যাপাসিটর এর কাজের পদ্ধতি হলো ক্যাপাসিট্যান্স। অর্থাৎ ক্যাপাসিটরের চার্জ ধরে রাখার ক্ষমতা কে ক্যাপাসিট্যান্স বলে। ক্যাপাসিটরের মধ্যখানে প্লেট এর মাঝে যখন পটেনশিয়াল পার্থক্য থাকে, তখন তাকে Capacitor চার্জ অবস্থায় থাকে এবং যখন পটেনশিয়াল পার্থক্য থাকে না তখন ডিসচার্জ অবস্থায় থাকে।

ক্যাপাসিট্যান্সের সূত্র:

ক্যাপাসিট্যান্স = চার্জ / পটেনশিয়াল ডিফারেন্স

অর্থাৎ, C = Q / V

এখানে,

C = ক্যাপাসিট্যান্স।

Q = চার্জ।

V = পটেনশিয়াল ডিফারেন্স।

ক্যাপাসিটর এর কাজ:

ক্যাপাসিটর কথাটির বাংলা অর্থ ধারক। ইলেকট্রনিক্স ক্যাপাসিটর হলো সার্কিটে চার্জ সংরক্ষণ বা ফিল্টারিং করে থাকে। কারণ ক্যাপাসিটর কারেন্টকে কিছুক্ষণ সংরক্ষণ করে বেশি শক্তিশালী করে সার্কিট রানিং করে থাকে। ক্যাপাসিটরের মূল কাজ সাময়িক ভাবে কারেন্ট সংরক্ষণ করা এবং ফিল্টার করা।

ক্যাপাসিটর এর গঠন প্রণালী:

একটি বিদ্যুৎ অপরিবাহী পদার্থের মধ্যে দুইটা ধাতব দন্ড পাশাপাশি রেখে ক্যাপাসিটর তৈরি করা হয়। অপরিবাহী পদার্থ হিসেবে প্লাস্টিক, রাবার বা অন্য পদার্থ ব্যাবহার করা হয়। অপরদিকে, ক্যাপাসিটরের দুই প্রান্তে পরিবাহী  হিসেবে বিভিন্ন ধরনের মেটাল পদার্থ ব্যাবহার করা হয়।

ক্যাপাসিটর এর প্রকারভেদ:

বৈশিষ্ট্যগত দিক দিয়ে ইলেকট্রনিক্স ক্যাপাসিটর তিন প্রকার যথা-

  1. ইলেকট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটর।
  2. নন-ইলেকট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটর।
  3. ভেরিয়েবল ক্যাপাসিটর।

ইলেকট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটর:

এই ক্যাপাসিটর হচ্ছে পজেটিভ ও নেগেটিভ পোলারিটি যুক্ত একটি পোলারাইজড ক্যাপাসিটর। এ ধরনের ক্যাপাসিটর তৈরিতে ইলেক্ট্রোলাইট ব্যবহার করা হয় বলে, এদের কে ইলেকট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটর বলা হয়। যে সকল সার্কিটে ডিসি অথবা পালসেটিং ডিসি প্রবাহিত হয় কেবলমাত্র ঐ সকল সার্কিটে ইলেকট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটর ব্যবহৃত হয়। অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ সঞ্চয় করে রাখার জন্য ইলেকট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটর ব্যবহার করা হয়।

এটি উচ্চ ধারকত্ব একটি Capacitor যেটির ধারক সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। এটি রেডিও-র ফিল্টার বাইপাস সার্কিটে ব্যবহৃত হলেও AC সার্কিটে ব্যবহার করা যায় না।

ইলেকট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটরের বৈশিষ্ট্য:

  • এটি এক ধরনের পোলারাইজড ক্যাপাসিটর।
  • এর প্লেট দু’টি পজেটিভ এবং নেগেটিভ ইলেকট্রোড হিসেবে চিহ্নিত থাকে।
  • এটি সাধারণত ডিসিতে ব্যবহৃত হয়।
  • এ ধরনের ক্যাপাসিটরের ক্যাপাসিট্যান্স এর মান সাধারণত এক মাইক্রো ফ্যারাড বা তার চেয়ে বেশি হয়।
  • এরা আকারে খুব ছোট হয়।

নন-ইলেকট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটর :

যে সকল ক্যাপাসিটর পোলারাইজড নয় এবং যাতে পজেটিভ ও নেগেটিভ। পোলারিটি চিহ্নিত থাকে না, তাকে নন-ইলেকট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটর বলে। দুটি ধাতব পাতের মাঝখানে একটি অপরিবাহী মাধ্যম, যেমন- পেপার, মাইকা, সিরামিক বা পলিয়েস্টার রেখে। একে একটা প্লাস্টিক বা ধাতুর ক্যাপসুলের মধ্যে আবদ্ধ করে নন ইলেকট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটর তৈরি করা হয়। এতে ব্যবহৃত অপরিবাহী মাধ্যমটিই এর ডাই-ইলেকট্রিকের কাজ করে এবং এ অপরিবাহী মাধ্যমের নামানুসারেই। ক্যাপাসিটরের নামকরণ হয়ে থাকে। যেমন- পেপার ক্যাপাসিটর, সিরামিক ক্যাপাসিটর, মাইকা ক্যাপাসিটর, পলিয়েস্টার ক্যাপাসিটর, স্টিলা ফ্লেক্স ক্যাপাসিটর ইত্যাদি। এ ধরনের ক্যাপাসিটরের মান কয়েকশত পিকোফ্যারাডের মধ্যেই সীমিত থাকে।

ভ্যারিয়েবল বা পরিবর্তনশীল ক্যাপাসিটর: 

এই ক্যাপাসিটরের মান প্রয়োজনমত কমানো বা বাড়ানো যায়। এই ধরনের Capacitor একের অধিক মুভিং প্লেটের সমন্বয়ে গঠিত। প্লেটের অবস্থান পরিবর্তন করে এর মান কমানো বা বাড়ানো যায়। সাধারণত এই ধরনের Capacitor রেডিও টিউনে ব্যবহার করা হয়।

এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের ক্যাপাসিটর রয়েছে। যেমন: পেপার ক্যাপাসিটর, সিরামিক ক্যাপাসিটর, মাইকা ক্যাপাসিটর, পলিয়েস্টার ক্যাপাসিটর ইত্যাদি।  

ভোল্টেজ রেগুলেটর আইসি:

একটি ভোল্টেজ রেগুলেটর হল একটি ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (IC) যা লোড বা ইনপুট ভোল্টেজের পরিবর্তন নির্বিশেষে একটি স্থির আউটপুট ভোল্টেজ প্রদান করে। 

ভোল্টেজ রেগুলেটর আইসি  গঠন এবং কার্যপ্রণালী: 

ভোল্টেজ রেগুলেটর বিভিন্ন ধরনের হয়। এই  প্রজেক্টে, আমরা শুধুমাত্র IC ভিত্তিক ভোল্টেজ রেগুলেটর নিয়ে আলোচনা করব। বাজারে পাওয়া IC ভোল্টেজ রেগুলেটরের একটি উদাহরণ হল জনপ্রিয় 7805 IC যা 5 ভোল্টে আউটপুট ভোল্টেজ প্রদান করে।  

বিভিন্ন প্রকার ভোল্টেজ রেগুলেটর আইসি :

ভোল্টেজ রেগুলেটর আইসি প্রধানত দুই প্রকার।  যথাঃ 

১. পজিটিভ ভোল্টেজ রেগুলেটর আইসি। 

২.নেগেটিভ ভোল্টেজ  রেগুলেটর আইসি। 

১.পজিটিভ ভোল্টেজ রেগুলেটর আইসিঃ  পজেটিভ ভোল্টেজ রেগুলেটর আইসি  এর আউটপুটে পজিটিভ ভোল্টেজ পাওয়া যায়। এই আইসি  গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, 7805, 7812, 7824 ইত্যাদি। 78 হলো আইসির মডেল নাম্বার এবং 05,12,24 এগুলো হলো আউটপুট ভোল্টেজের মান। 

২. নেগেটিভ ভোল্টেজ রেগুলেটর আইসিঃ নেগেটিভ ভোল্টেজ রেগুলেটর আইসি  এর আউটপুটে নেগেটিভ ভোল্টেজ পাওয়া যায়। এই আইসি  গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, 7905, 7912, 7924 ইত্যাদি। 79 হলো আইসির মডেল নাম্বার এবং 05,12,24 এগুলো হলো আউটপুট ভোল্টেজের মান। 

error: Alert: Content is protected !!